সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি ও শিক্ষানুরাগী এম. আকবর আলীর নাম ঘোষণার পর থেকেই উল্লাপাড়া ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ভোটারদের দাবি ছিল দ্রুত মনোনয়নের সিদ্ধান্ত দেওয়া। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই বিএনপির পক্ষ থেকে জনাব এম. আকবর আলীকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত একটি বিষয়ই স্পষ্ট ছিল— উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনে এম. আকবর আলীর বিকল্প নেই। কয়েক মাস ধরে উল্লাপাড়া বিএনপির সদস্য সচিব আজাদ, সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান, এডভোকেট সিমকি ইমাম, আবদুল ওয়াহাবসহ একাধিক জনপ্রিয় নেতা মনোনয়নের আশায় মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব নেতাদের মাঠে থাকতে বলেছিলেন, তবে শর্ত ছিল— হাইকমান্ড যাকে মনোনয়ন দেবে, সবার একসাথে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। কিন্তু এম. আকবর আলী মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের কিছু নেতা গোপনে এবং কেউ কেউ প্রকাশ্যে মিডিয়ায় তার বিরোধিতা শুরু করেছেন।
উল্লাপাড়া বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, এসব বিরোধিতাকারী দলীয় সিদ্ধান্তের পরিপন্থী কাজ করছেন। তারা অভিযোগ করেন, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই কিছু ব্যক্তি এম. আকবর আলীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।
স্থানীয় জনগণ বলেন, এম. আকবর আলী মাদক, চাঁদাবাজি বা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অসৎ কাজের চরম বিরোধী। তিনি এলাকায় সৎ, শিক্ষানুরাগী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে সুপরিচিত। তাদের বিশ্বাস, এম. আকবর আলী পুনরায় এমপি নির্বাচিত হলে উল্লাপাড়ায় মাদক ও চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।
ইতিমধ্যে সাবেক মেয়র বেলাল হোসেন, সিনিয়র নেতা হেলাল সরকার, তরুণ নেতা মিস্টার চেয়ারম্যান, গোলাম আম্বিয়াসহ ত্যাগী নেতারা একত্রিত হয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। ফলে উল্লাপাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে গত ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার ধামাইকান্দি বাজারে খান সাঈদ হাসানের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, এটি ছিল ব্যক্তিগত শত্রুতাজনিত একটি বিরোধ, যেখানে কিছু দুষ্কৃতকারী টাকার বিনিময়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। কিন্তু ঘটনার পরপরই কিছু ফেসবুক আইডি থেকে “আকবর আলী গ্রুপের হামলা” বলে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয় এবং পরবর্তীতে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালেও তা প্রকাশিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব সাজানো ছবি ও অপপ্রচার বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই ষড়যন্ত্রকারীদের মূল লক্ষ্য।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলেন, “আকবর আলীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তার জনপ্রিয়তা কমানো যাবে না। কিছু বিপথগামী ব্যক্তির কারণে উল্লাপাড়া বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না।”